প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের চিন্তা করছে সরকার। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং কর্মদক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) একাধিক সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন অভিজ্ঞ ও নতুন মুখ। দুয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
পিএমও কার্যালয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত রয়েছে। তবে, কবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে ঈদুল আজহার পর ঘোষনা আসতে পারে ।
টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র আরও জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে, তার বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব না পেলে সংরক্ষিত নারী আসনের অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হতে পারে। একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি সম্প্রতি সরকারের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারে— এমন আলোচনাও চলছে।
এছাড়া, দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে। কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।