বাংলােদেশ গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক দিনেই বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন ১২ জন । এ নিয়ে ১৮ দিনে মৃত্যু হল ১৫ জনের । যা চলতি মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সামনে কালবৈশাখি মৌসুম ঘনিয়ে আসায় ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে মে-জুন মাসে সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ গ্রামীণ এলাকায় বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। সচেতনতা ও সতর্কতা জোরদার না হলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত হঠাৎ ঘটলেও এর আগে প্রকৃতিতে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। এসব লক্ষণ বুঝতে পারলে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে ওপরের স্তরের শীতল বাতাসের তীব্র সংঘর্ষ হলে আকাশে বিশালাকৃতির ‘কিউমুলোনিম্বাস’ (অত্যন্ত ঘন, উল্লম্বভাবে বিস্তৃত এবং শক্তিশালী বজ্রঝড় সৃষ্টিকারী মেঘ) মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘের ভেতরে জলকণা ও বরফকণার ঘর্ষণে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক আধান তৈরি হয়। এই চার্জের ভারসাম্যহীনতা বেশি হলে বিদ্যুৎ চমকায়, আর তা মাটিতে আঘাত করলে সেটিই বজ্রপাত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের বজ্রপাত প্রবণ এলাকাগুলোকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, নবাবগঞ্জ, পাবনা, দিনাজপুর, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় বজ্রপাতের তীব্রতা বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের মধ্যাঞ্চলেও বজ্রপাত বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ঢাকা, নরসিংদী, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলাগুলোও এখন উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। এর বিপরীতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বজ্রপাতের প্রকোপ তুলনামূলক কম।
আবহাওয়াবিদ বলছেন, সংখ্যায় কম হলেও মার্চ থেকে মে মাসের বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী। এই সময়ে মেঘ থেকে সরাসরি ভূমিতে বজ্রপাতের হার বেশি থাকে এবং এমন বজ্রপাতেই প্রায় ৯৯ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে তিনি বলেন— ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাব তখনই’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ বজ্রধ্বনি শোনামাত্রই খোলা জায়গা ছেড়ে দ্রুত ঘরে আশ্রয় নিতে হবে। আর ঘরে যাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে আবার বজ্রধ্বনি শোনা গেলে শেষবারের শব্দ শোনার পর থেকে নতুন করে ৩০ মিনিট গণনা করতে হবে।